দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরভুক্ত সাতটি জেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে, ফলে কৃষকরা স্বস্তিতে ধান ঘরে তুলছেন।
মঙ্গলবার (১১ মে) সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। উপদেষ্টা বলেন, অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে ফসলের ক্ষতির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, সিলেট অঞ্চলের চার জেলা—সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার; ঢাকা অঞ্চলের কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা অঞ্চলের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের নেত্রকোনা—এই সাত জেলায় মোট ৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫৭ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে প্রায় ১ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত হলেও তা মোট উৎপাদনের মাত্র ০ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা সামগ্রিক উৎপাদনে বড় কোনো প্রভাব ফেলেনি।
জাহেদ উর রহমান আরও জানান, পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা নির্বিঘ্নে ধান কাটতে পারছেন। ইতোমধ্যে ৮৪ শতাংশের বেশি ধান কাটা সম্পন্ন হওয়ায় উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৩ মে থেকে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। ১০ মে পর্যন্ত ১ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন ধান এবং ৪ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে সরকার মোট ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন আতপ চাল রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ সমাজকে কৃষিসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। কৃষিকে আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে, যাতে এই খাত আরও লাভজনক ও টেকসই হয়ে ওঠে।
আপনার মতামত লিখুন :