লবণচাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১২, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
লবণচাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে লবণ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং স্থানীয় লবণচাষিদের স্বার্থ সুরক্ষায় উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লবণের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত লবণচাষিদের জীবনমান উন্নয়ন সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কৃষি মন্ত্রণালয় বর্তমানে লবণ উৎপাদনে চাষিদের প্রকৃত ব্যয় পর্যালোচনা করছে। এর মাধ্যমে এমন একটি মূল্য নির্ধারণ করা হবে, যাতে লবণচাষিরা তাদের শ্রম ও বিনিয়োগের যথাযথ প্রতিদান পান। একই সঙ্গে দেশে ভোজ্য ও শিল্পখাতে ব্যবহৃত লবণের মোট চাহিদা নিরূপণ করে আমদানির প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতাও যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে দেশ লবণ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে এবং স্থানীয় চাষিরা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। সরকার দেশের কৃষিভিত্তিক শিল্প ও স্থানীয় উৎপাদনকে আরও শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সীমান্তে উত্তেজনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারতের কোনো অঙ্গরাজ্যে সরকার পরিবর্তন কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, যেমন সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ, সেটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলে না। সীমান্তে অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা বা এর নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে—এমন তথ্য স্বরাষ্ট্র বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই।

এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।