শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১২, ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দেশের শিক্ষা কারিকুলাম নতুন করে সাজানো এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কেবল পুঁথিগত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও বাস্তবমুখী করতে সরকার কাজ করছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

তিনি বলেন, উদ্ভাবন ও গবেষণায় পিছিয়ে থাকলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা কঠিন হবে। তাই কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও গবেষণামুখী কার্যক্রম উৎসাহিত করতে ‘ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, সীমিত সম্পদ দিয়েও কার্যকর পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নতুন কিছু করা সম্ভব। দেশের মেধাবী তরুণদের বিদেশমুখী প্রবণতা কমিয়ে তাদের দেশে থেকেই গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে চায় সরকার। মেধা পাচার রোধ করে মেধা লালনের মাধ্যমে একটি দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে। শিক্ষা শুধু চাকরির মাধ্যম নয়, বরং জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি—এমন দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায়ের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা তরুণ সমাজ ধারণ করছে, তা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তরুণদের নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী শক্তি ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক, দক্ষ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।