বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১২, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসায় বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলার ও জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে মূল্যবান ধাতু সোনার বাজারে, যেখানে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে হঠাৎ করেই নিচে নেমে যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৯৬ দশমিক ০৭ ডলারে। এর আগে ২১ এপ্রিলের পর এই দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জুন মাসে সরবরাহের জন্য সোনার ফিউচার চুক্তির দামও ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৭০৩ দশমিক ২০ ডলারে নেমে আসে। ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সোনার বাজারে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মুদ্রাস্ফীতি তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান—এই দুই কারণেই সোনার দামে এই পতন ঘটেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা এখন “লাইফ সাপোর্টে” রয়েছে। পাশাপাশি তেহরানের পাল্টা প্রস্তাবকে তিনি “আবর্জনা” বলে মন্তব্য করেছেন, যা বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডলার ও বন্ড ইল্ড শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যা সোনার বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মার্কিন বন্ড ইল্ড ও ডলারের মান শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে সরে গিয়ে ডলারের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

আজ যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল মাসের মুদ্রাস্ফীতি (সিপিআই) তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে। এই তথ্যের ওপর নির্ভর করবে ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী সুদের হার সিদ্ধান্ত। সাধারণত তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, যা সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে। যেহেতু সোনা কোনো সুদ প্রদান করে না, তাই সুদের হার বেশি থাকলে এই ধাতুর চাহিদা কমে যায়—যা বর্তমান দরপতনের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।