বাগেরহাটে বৃষ্টিতে নষ্ট বোরো ধান, খেতেই গজাচ্ছে চারা; দিশেহারা কৃষক


বাগেরহাট প্রতিনিধি, নূরুল হুদা প্রকাশের সময় : মে ১২, ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ
বাগেরহাটে বৃষ্টিতে নষ্ট বোরো ধান, খেতেই গজাচ্ছে চারা; দিশেহারা কৃষক

অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় বাগেরহাটে পাকা বোরো ধান নুয়ে পড়ে খেতেই চারা গজাতে শুরু করেছে। এতে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক। পানির নিচে থাকা ধান কাটতে বাড়তি খরচ হলেও সেই ধান বিক্রি কিংবা খাওয়ার উপযোগী না হওয়ায় হতাশ চাষিরা।

মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পানিতে ডুবে থাকা ধানক্ষেতে শ্রমিকরা কষ্ট করে ধান কাটছেন। কিন্তু অধিকাংশ ধানের শীষে ইতোমধ্যে চারা গজিয়ে গেছে।

কৃষক শেখ রুস্তম আলী জানান, এবার তিনি আড়াই একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। চাষাবাদে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ে প্রায় দুই একর জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়ে। এখন সেই ধান কাটতে যেখানে সাধারণ সময়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাগত, সেখানে ব্যয় হবে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। অথচ এই ধান বাজারে বিক্রিও করা যাবে না।

তিনি বলেন, “গরুর খাবারের জন্য খড় দরকার না হলে ধানই কাটতাম না। নিজের জমি না হলেও এবার পথে বসার অবস্থা।” একই গ্রামের কৃষক মোজাফফের মোল্লা বলেন, লিজ নেওয়া এক বিঘা জমির সব ধানেই চারা গজিয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে দিনে এক হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মাদরাসায় পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে ধান কাটতে নেমেছেন তিনি।

বাগেরহাট সদর উপজেলার উৎকুল গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির জানান, দেড় বিঘা মাছের ঘেরে চাষ করা ধান পানির নিচে থাকায় কাটাই সম্ভব হয়নি। এতে ধান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পচা পানির কারণে ঘেরের মাছও মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “ধান গেছে, খড়ও থাকবে না। এখন মাছও মারা শুরু করেছে।”

এদিকে যেসব কৃষক কষ্ট করে ধান ঘরে তুলেছেন, তারাও পাচ্ছেন না ন্যায্যমূল্য। গত বছর যেখানে প্রতি মণ ধান ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার সেই ধান বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

ধানচাষি আমির হাওলাদার বলেন, দুই বিঘা জমিতে ভালো ফলন হলেও ভেজা ধানের কারণে মাত্র ৭৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বাগেরহাটে ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিতে অন্তত ১ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সরকারিভাবে প্রণোদনা বা সহায়তা দেওয়া হলে এসব কৃষককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আর বৃষ্টি না হলে কিছু কৃষক আংশিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।