পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই: গভর্নর


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১২, ২০২৬, ১:০৩ অপরাহ্ণ
পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই: গভর্নর

ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংকের একীভূত (মার্জার) কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর সঙ্গে এক বৈঠকে গভর্নর এ অবস্থান জানান। বৈঠকে ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সংশোধিত আইন এবং একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে সংশোধিত আইনের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে বিদেশে চলে যাওয়া বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পুনরায় ব্যাংক খাতে ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। উদ্যোক্তাদের মতে, এমন সুযোগ দেওয়া হলে ব্যাংক খাতে আবারও অনিয়ম ও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

বিএবির সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, কারা ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে গেছে তা জনগণ জানে। তাদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হলে ব্যাংক খাতের প্রতি আস্থা আরও কমে যাবে এবং নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি এ বিষয়ে সরকারের আরও সতর্ক বিবেচনার আহ্বান জানান।

তবে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বৈঠকে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, সংশোধিত আইনের ১৮(ক) ধারার শর্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। শর্ত পূরণ না হলে সাবেক মালিকদের ফেরার কোনো সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে চলমান পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়াও নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহির, পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান এবং ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরীসহ শীর্ষ ব্যাংকাররা।

এদিকে বিএবি বৈঠকে একটি লিখিত প্রস্তাবও দেয়, যেখানে দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট, খেলাপি ঋণের চাপ, মূলধন ঘাটতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা তুলে ধরা হয়। সংগঠনটি ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিশেষ জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠন, অর্থঋণ আদালত সংস্কার এবং পুনর্গঠনাধীন ব্যাংকগুলোর জন্য আলাদা ক্যাটাগরি তৈরির প্রস্তাব দেয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতে চলমান এই আলোচনা ও সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতে দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও আস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।