
ভারতের শিলিগুড়ির অক্সিলিয়াম কনভেন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র দিব্যেন্দু প্রামাণিক আইসিএসই বোর্ড পরীক্ষায় ৫০০ নম্বরের মধ্যে ৪৯৯ পেয়ে সর্বভারতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। অসাধারণ এই সাফল্য সত্ত্বেও তার মায়ের একটি মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
দিব্যেন্দুর মা ও স্কুলশিক্ষিকা বাণী প্রামাণিক শর্মা একটি ভাইরাল ভিডিওতে বলেন, “আমার মন খারাপ… ও যদি আরও এক নম্বর পেত, তাহলে ভালো হতো। যদি ও আরেকটু মন দিয়ে পড়াশোনা করত, তাহলে হয়তো ওই এক নম্বর না পাওয়ার জন্য আমাদের এতটা দুঃখ হতো না।”
ছেলের এমন অসাধারণ ফলাফলের পরও এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এটিকে একজন মায়ের উচ্চ প্রত্যাশা হিসেবে দেখলেও, অনেকে এটিকে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপের উদাহরণ হিসেবে সমালোচনা করেছেন।
ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির মন্তব্যঘরে একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “এমন বাবা-মা যেন আমার জীবনে কখনো না আসে।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “এ কারণেই অনেক সন্তান বড় হয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে।”
তবে বিতর্কের মধ্যেও শান্ত প্রতিক্রিয়া জানায় দিব্যেন্দু নিজে। ভিডিওতে সে বলে, “ওই এক নম্বর হারানোয় আমার খারাপ লাগছে, কিন্তু ঠিক আছে। আমি ভালোই করেছি।”
দিব্যেন্দু আরও জানায়, ভবিষ্যতে সে প্রকৌশলী হতে চায় এবং ভারতের শীর্ষ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি)-তে ভর্তি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
ঘটনাটি আবারও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ এবং পরীক্ষাভিত্তিক প্রতিযোগিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় ভারসাম্যপূর্ণ মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
আপনার মতামত লিখুন :