নওগাঁর রাণীনগরে আশ্রয়ণের ঘর বেচাকেনার মহোৎসব


নওগাঁ প্রতিনিধি, আব্দুল মজিদ মল্লিক প্রকাশের সময় : মে ১২, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
নওগাঁর রাণীনগরে আশ্রয়ণের ঘর বেচাকেনার মহোৎসব

রাণীনগর উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর অর্থের বিনিময়ে হাতবদল হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু একবার নয়, একই ঘর একাধিকবার বিক্রি ও দখল করে বিলাসবহুলভাবে ব্যবহার করার ঘটনাও সামনে এসেছে।

উপজেলার মালিপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের কয়েকটি ঘর এখন প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপকদের দখলে নেই। ৫ নম্বর ঘরটি মূলত মল্লিকা নামের এক নারীর নামে বরাদ্দ থাকলেও সেখানে বর্তমানে বসবাস করছেন প্রবাসী সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা বিবি। ঘরের ভেতরে দামী কার্পেট, ফ্রিজ ও ৪৩ ইঞ্চি স্মার্ট টিভিসহ উন্নত আসবাবপত্র দেখা গেছে।

মর্জিনা বিবি জানান, তিনি ৭০ হাজার টাকায় ঘরটি মকবুল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন। মকবুল আবার সেটি মূল বরাদ্দপ্রাপক মল্লিকার কাছ থেকে নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, একইভাবে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় আরেকটি ঘরও তিনি কিনেছেন।

স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের বিভিন্ন ঘর ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। ৭, ৯, ১০, ১৪, ১৮, ১৯ ও ২২ নম্বর ঘরসহ একাধিক ঘর একাধিকবার হাতবদল হয়েছে বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে হাফিজুলের স্ত্রী নাজমা বেগমের নামও উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেন, প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপকরা অন্য এলাকায় চলে যাওয়ায় স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে কিছু ঘর হস্তান্তরে সহায়তা করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত ভূমিহীনদের পরিবর্তে বিত্তবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় এ অনিয়মের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি কিছু ব্যক্তি ঘর পেয়েও তা বিক্রির জন্য বাজারে তুলেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে গ্রাম পুলিশ ছাবিনা ইয়াসমিন মীম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ঘর বিক্রি করেননি এবং বিষয়টি সম্পর্কে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। প্রকল্প সভাপতি ফরিদ আলী জানান, ৩২টি ঘরের মধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১২টি ঘর অর্থের বিনিময়ে হাতবদল হয়েছে বলে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল হাসান বলেন, “ঘর কেনাবেচার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”