ঘরে বসেই মিলছে ভূমিসেবা, কমছে দুর্নীতি ও ভোগান্তি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১২, ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ
ঘরে বসেই মিলছে ভূমিসেবা, কমছে দুর্নীতি ও ভোগান্তি

একসময় জমির খতিয়ান তোলা, নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করা কিংবা ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করা ছিল সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘসূত্রতা, ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি প্রক্রিয়া। একটি সেবা পেতে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস কিংবা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। তথ্যের অস্বচ্ছতা ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যেত। তবে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের ফলে দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় এখন দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।

সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয় ও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর (ডিএলআরএস) ধাপে ধাপে ভূমিসেবাকে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে। বর্তমানে অনলাইনে নামজারি আবেদন, ই-নামজারি নিষ্পত্তি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ, অভিযোগ দাখিল এবং ভূমি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই সহজেই করা যাচ্ছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, অটোমেশনের ফলে জনগণকে এখন আর সরাসরি ভূমি অফিসে যেতে হচ্ছে না। ঘরে বসেই অনলাইনে অধিকাংশ সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এতে দুর্নীতি যেমন কমেছে, তেমনি সেবা প্রাপ্তিও সহজ হয়েছে। তবে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ করতে জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আগে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে একাধিকবার যাতায়াত করতে হতো। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই খাজনা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ই-পর্চা ও ই-খাজনা কার্যক্রম চালুর পর প্রতিবছর অনলাইনে কর পরিশোধকারীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ নাগরিক অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিও রয়েছেন।

জমি কেনাবেচার পর মালিকানা হালনাগাদ করতে নামজারি ছিল সবচেয়ে জটিল ধাপগুলোর একটি। বর্তমানে অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড এবং মোবাইল ফোনে আবেদন অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ চালু হওয়ায় এ প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত ১ কোটির বেশি ই-নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং প্রায় ৫ লাখ আবেদন বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) নাসরিন জাহান বলেন, অনলাইনে নামজারি চালুর ফলে মানুষের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি উপজেলার সহকারী কমিশনারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত ফি ও সময়সীমা অনলাইনে উন্মুক্ত থাকায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অযৌক্তিক বিলম্বের সুযোগ কমেছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার কারণে কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতাও বেড়েছে। ভবিষ্যতে জিআইএস প্রযুক্তিভিত্তিক ডিজিটাল মানচিত্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।