
সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নূরুল আমিনের অপসারণ দাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সোমবার আন্দোলনের সপ্তম দিনে রাজধানীর বিশ্বব্যাংক কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে ‘এসডিএফ কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন ‘রেজিলিয়েন্স এন্ট্রাপ্রেনিওরশীপ অ্যান্ড লাইভলিহড ইমপ্রুভমেন্ট’ (আরইএলআই) প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ধারাবাহিক অবস্থান কর্মসূচি শেষে আজ তারা বিশ্বব্যাংক এলাকার সামনে সমবেত হয়ে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বর্তমান চেয়ারম্যান ও এমডির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক অদক্ষতার অভিযোগ আনেন। কর্মসূচির সমন্বয়কারী আব্দুল লতীফ বলেন, আরইএলআই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত সাতবার মিশন পরিদর্শন হয়েছে। প্রথম ছয়টি পরিদর্শনে ইতিবাচক মূল্যায়ন মিললেও সর্বশেষ পরিদর্শনে প্রকল্পটি ‘মডারেটলি আনসাটিসফ্যাক্টরি’ রেটিং পেয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সংস্থার অভ্যন্তরীণ কর্মপরিবেশের অবনতির বিষয়ও উঠে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এমডি নিয়োগে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপেক্ষা করে অডিট ক্যাডারের নূরুল আমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, বোর্ড চেয়ারম্যানও একই ক্যাডারের হওয়ায় নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, এসডিএফের প্রধান কার্যালয় বিএনএফ ভবনে স্থানান্তরের পরও সেখানে কোনো সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়নি। তাদের আশঙ্কা, এসডিএফকে বিএনএফের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা চলছে, যার ফলে বড় ধরনের জনবল সংকোচনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য গোপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।
আজকের কর্মসূচিতে প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা ও ক্লাস্টার অফিসের বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা জানান, চেয়ারম্যান ও এমডির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সংস্থার স্বচ্ছতা ও সুনাম রক্ষায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপও দাবি করেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :