
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা, ধরন্জী, আয়মারসুলপুর, বালিঘাটা ও আটাপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নে এক সময় ব্যাপকভাবে চাষ হতো খ্যাতনামা ‘লতিরাজ’ জাতের কচু। তবে বর্তমানে এক সময়ের জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ফসলটি বিলুপ্তির পথে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও চাষিরা।
কৃষকদের অভিযোগ, বীজ সংকট, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, রোগবালাই বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লতিরাজ কচু চাষ দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে অনেক কৃষক এখন লাভজনক অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সুমন, জাকিরুল ও মমিজুল জানান, উন্নতমানের বীজের অভাব এবং সংরক্ষণ প্রযুক্তির ঘাটতির কারণে উৎপাদন আশানুরূপ হচ্ছে না। পাশাপাশি লতিরাজ কচুর জন্য আলাদা বাজার ব্যবস্থা না থাকা ও পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় তারা যথাযথ মুনাফা অর্জন করতে পারছেন না।
কয়েকজন প্রবীণ চাষি বলেন, “এই সোনালি কচু যদি হারিয়ে যায়, তাহলে শুধু একটি ফসল নয়, পুরো এলাকার জীবিকা ও ঐতিহ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” তবে অনেকেই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, যথাযথ জরিপ ছাড়া ‘বিলুপ্ত’ শব্দ ব্যবহার করা ঠিক নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে চাষে অবহেলা ও উৎপাদন হ্রাসের লক্ষণ স্পষ্ট। তারা মনে করেন, সময়মতো উদ্যোগ নিলে এ ফসল পুনরুদ্ধার সম্ভব। এজন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, বীজ সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং বাজার সংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, লতিরাজ কচু চাষ আগের মতো ফিরিয়ে আনতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় কৃষক সংগঠনগুলো দাবি করেছে, দ্রুত সরকারি উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা না পেলে পাঁচবিবির ঐতিহ্যবাহী লতিরাজ কচু চাষ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
আপনার মতামত লিখুন :