মুকসুদপুরে ডিসিআরভুক্ত জমি নিয়ে বিরোধ, অসহায় পরিবারের বসবাস নিশ্চিতের দাবি


মুকসুদপুর প্রতিনিধি, মিরান গাজী   প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
মুকসুদপুরে ডিসিআরভুক্ত জমি নিয়ে বিরোধ, অসহায় পরিবারের বসবাস নিশ্চিতের দাবি

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মধ্যবনগ্রামে ডিসিআরভুক্ত জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা একটি অসহায় পরিবারকে উচ্ছেদ করা হতে পারে।

মৌজার ১০১ নং জে.এল-এর ৫৮১ এস.এ খতিয়ানের ২৩৪ নং দাগের ৫১ শতক জমির মধ্যে ২৫ শতক জমি রেকর্ডে দলিলউদ্দিন কারিকরের নামে রয়েছে। অপর ২৬ শতক জমি ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের উপেন্দ্র চন্দ্র কুন্ডু গংদের নামে। পরে বিআরএস রেকর্ডে দলিলউদ্দিন কারিকরের ২৫ শতকের মধ্যে ২০ শতক তার দুই ছেলে আব্দুল করিম কারিকর ও আব্দুল হালিম কারিকরের নামে রেকর্ড হয় এবং ৫ শতক সরকারি রাস্তার নামে রেকর্ড করা হয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে ইসমাইল শেখ উপেন্দ্র চন্দ্র কুন্ডু গংদের জমি বায়নাপত্রের মাধ্যমে ক্রয় করেন। বিআরএসে ইসমাইল শেখের নামে ৮ শতক, বাকি ১২ শতক জমি আশরাফ আলী মিয়ার নামে ডিসিআর প্রদান করা হয়। যদিও আশরাফ আলী মিয়া কখনো ওই জমি ভোগদখল করেননি। দীর্ঘদিন ধরে ইসমাইল শেখ ও পরে তার ছেলে ছিদ্দিক শেখ ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।

কিন্তু গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে করিম কারিকরের ছেলে আবুল হোসেন কারিকর ওই জমির ডিসিআর দাবি করে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন দাখিল করেন। এছাড়াও কয়েকদিন আগে বাড়ির মধ্যে থাকা একটি পিচফল গাছ ঝড়ে পড়ে গেলে ছিদ্দিক শেখ গাছটি কেটে ফেলেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, গাছটির বাজারমূল্য খুবই সামান্য। এছাড়া ডিসিআরভুক্ত জায়গা থেকে আরও কিছু গাছ কাটা হয়েছে, যা পূর্বের ডিসিআরপ্রাপ্ত মালিক কেটেছেন বলে তারা জানান।

মহারাজপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. ইমারাত হোসেন জানান, “১২ শতক জমি আশরাফ আলী মিয়ার নামে ডিসিআর কাটা ছিল। ২০২৪ সালে ওই জমি ছিদ্দিক শেখের নামে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ওই জমি ভোগদখলে রয়েছেন।”

এলাকাবাসী সরকারী কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, অসহায় ছিদ্দিক শেখ ও তার পরিবার যেন শান্তিপূর্ণভাবে উক্ত জমিতে বসবাস করতে পারেন, সে বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।