বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙতে পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙতে পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বিদ্যমান সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য করতে সরকার নানা ধরনের সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আমদানি থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটি এআইভিত্তিক পর্যবেক্ষণ মডেলের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পণ্যের চলাচল, মজুত ও সরবরাহ আরও কার্যকরভাবে মনিটর করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার টিসিবির মাধ্যমে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। গত বছর যেখানে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছিল, এবার তা বাড়িয়ে প্রায় ১৪ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন উৎসব বা বিশেষ সময়ে ট্রাক সেল কার্যক্রম আবারও চালু করা হবে। পাশাপাশি টিসিবির নিয়মিত ভর্তুকি মূল্যের পণ্য বিতরণ কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, টিসিবির উপকারভোগী তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগের প্রায় এক কোটি উপকারভোগীর মধ্যে প্রায় ৫৯ লাখই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ বা ভুয়া। পরে নতুন ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে তালিকা তৈরি করে বর্তমানে উপকারভোগীর সংখ্যা ৮০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে এবং আরও ২০ লাখ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া টিসিবির ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের ধারণা রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কৌশলগত মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করছে।

তিনি বলেন, আমদানিনির্ভর বাজার ব্যবস্থায় বড় পুঁজির প্রভাব বেশি থাকায় সবাই এতে অংশ নিতে পারে না। তাই টিসিবির সঙ্গে অংশীদারিত্বভিত্তিক নতুন ব্যবসায়িক মডেল নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, যাতে বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ে এবং কোনো ধরনের কারসাজি কার্যকর হতে না পারে।