ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধ চেয়ে হাইকোর্টে জয়া আহসান


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধ চেয়ে হাইকোর্টে জয়া আহসান

বাংলাদেশে ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটটি দায়ের করেছেন অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণ কর্মী জয়া আহসান, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

সোমবার (১১ মে) দায়ের করা এই রিটে গাজীপুরে সম্প্রতি উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংস বাণিজ্য বন্ধ, দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই তদন্তের প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়, অসুস্থ ও অস্বাস্থ্যকর ঘোড়া জবাই করে তার মাংস প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে প্রাণীদের প্রতি চরম নিষ্ঠুরতা ঘটছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

আইনজীবীরা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরের দিকে গাজীপুরে যৌথ অভিযানে একটি অবৈধ জবাইখানা থেকে অসুস্থ ঘোড়া, জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস এবং বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষায় এসব মাংসে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী সংক্রমণসহ নানা ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

রিটে ৬০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় নির্দেশিকা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজেয়াপ্ত অসুস্থ ঘোড়ার নিলাম বন্ধ, এবং উদ্ধারকৃত প্রাণীদের পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য একটি সরকারি প্রাণী কল্যাণ কাঠামো গঠনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

সংগঠনগুলোর দাবি, বারবার সতর্কতা ও তথ্য প্রদান সত্ত্বেও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অবৈধ এই চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে। তারা মনে করেন, দ্রুত বিচারিক হস্তক্ষেপ ছাড়া জনস্বাস্থ্য ও প্রাণী কল্যাণ উভয়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। রিটটি এখন হাইকোর্টের প্রাথমিক শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।