আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী ও প্রথাবিরোধী লেখক আহমদ ছফার কবর মিরপুরের সাধারণ কবরস্থান থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। মৃত্যুর প্রায় দুই যুগ পর দেশের এই বিশিষ্ট সাহিত্যিককে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অংশ হিসেবে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলো।
লেখকের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৪তম করপোরেশন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি আহমদ ছফার পরিবারের পক্ষে তার ভাইয়ের ছেলে নূরুল আনোয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে কবর স্থানান্তরের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজচিন্তায় আহমদ ছফার অসামান্য অবদান থাকা সত্ত্বেও তাকে এখনো যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই তাকে উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে বর্তমান সাধারণ কবরস্থান থেকে সরিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মর্যাদার সঙ্গে সমাহিত করার দাবি জানানো হয়।
পরে গত ১৩ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় করপোরেশনের সদস্যরা আহমদ ছফার কবর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
এ প্রসঙ্গে নূরুল আনোয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, আহমদ ছফার মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারের ইচ্ছা ছিল তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা। কিন্তু সে সময় তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সাধারণ কবরস্থানের নির্ধারিত সময় শেষ হলে কবরটি অপসারণের আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণেই পরিবার চেয়েছে, তার কবরটি যেন বুদ্ধিজীবীদের জন্য নির্ধারিত অংশে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরে বর্তমান সরকারের কাছে আবেদন উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন পায়। মূলত আহমদ ছফার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ও চিন্তকের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করাই ছিল পরিবারের মূল লক্ষ্য।
বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও রাজনৈতিক চিন্তায় স্বতন্ত্র অবস্থানের কারণে আহমদ ছফা আজও পাঠক ও গবেষকদের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তার কবর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :