সীমান্ত সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে কঠোর নজরদারি বিজিবির


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১০, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
সীমান্ত সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে কঠোর নজরদারি বিজিবির

সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান, সন্ত্রাস, মাদক ও নারী-শিশু পাচার রোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দেশের প্রায় ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ড্রোন, থার্মাল ক্যামেরা, রাডার এবং আধুনিক ডিজিটাল সার্ভিলেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাহিনীটি। সীমান্ত নিরাপত্তায় এসব প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, সীমান্তে অপরাধ দমনে অভিযানে আটক ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-এর সঙ্গে নিয়মিত পতাকা বৈঠক ও যৌথ টহলের মাধ্যমে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার কার্যক্রমেও বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুর্গম পাহাড়, নদী ও সুন্দরবনের মতো এলাকায়ও জোয়ানরা দায়িত্ব পালন করছেন।

সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) সম্প্রসারণ, স্মার্ট ডিজিটাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম চালু এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সীমান্ত পিলার সংরক্ষণ ও অবৈধ স্থাপনা প্রতিরোধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি। বিজিবি জানিয়েছে, যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে জনবল বৃদ্ধি, নতুন ব্যাটালিয়ন গঠন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণে অস্ত্র চালনা, শারীরিক সক্ষমতা, বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা এবং মানবাধিকার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া জাতীয় নির্বাচন, ধর্মীয় উৎসব ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করছে বিজিবি। একই সঙ্গে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ দুর্যোগকালীন সময়ে ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বাহিনীটি। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে দেশজুড়ে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে প্রায় ১,৫৩৪ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

সীমান্ত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও বাড়ানো এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, সীমান্ত অপরাধ দমনে সমন্বিত অভিযান ও প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে এবং অবৈধ যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। সব মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষায় আরও শক্ত অবস্থানে যাচ্ছে বিজিবি, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।