
সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে এবারের আম মৌসুম, আর এতে জেলার কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আশাবাদের নতুন সুর। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে সাতক্ষীরায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এবারের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত ৫ মে থেকে জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও শ্রমিকরা। বাগানগুলোতে সকাল থেকেই চলছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
সদর উপজেলার আমচাষি আবু সাইদ জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে ভালো মুকুল এসেছে এবং ফলনও সন্তোষজনক হয়েছে। তবে তিনি জানান, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। বাজারে ভালো দাম না পেলে কৃষকদের লোকসানের ঝুঁকি থেকেই যায়।
একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আরেক চাষি নূর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ফলন বেশি হলে দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে হিমসাগর জাতের আমের দাম কমে গেলে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।
তালা উপজেলার চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে সাতক্ষীরার আম সবার আগে পৌঁছায়, যা তাদের জন্য বড় সুবিধা। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা বাগানে আসতে শুরু করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে মৌসুমটি চাষিদের জন্য লাভজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছর ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। কৃষকদের সচেতন পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে এবং পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে এবারের আম মৌসুম বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আপনার মতামত লিখুন :