জনগণের আস্থা অর্জন এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়াম-এ পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত পুলিশের ‘কল্যাণ প্যারেড’-এ তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়; এটি আইন অনুযায়ী পরিচালিত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, সেটিই হবে পুলিশের প্রকৃত সাফল্য। আর পুলিশের সাফল্য মানেই সরকারের সাফল্য।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশের মূল দায়িত্ব ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন’। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আস্থা ও নির্ভরতার হওয়া উচিত, যাতে মানুষ যে কোনো বিপদে থানাকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। তিনি পুলিশের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক এবং তারা যখন থানায় আসে, তখন তাদের আচরণে সেই মালিকানার অনুভূতি পাওয়া জরুরি।
তিনি কমিউনিটি পুলিশিং, ওপেন হাউস ডে এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে থানার পরিবেশকে আরও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে মানুষ সরাসরি এসে অভিযোগ জানাতে পারে এবং দ্রুত প্রতিকার পায়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ পুলিশ-এর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, মানবিকতা এবং পেশাদারিত্ব বাড়িয়ে আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গুম, অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি জানান, সরকার পর্যায়ক্রমে পুলিশের আবাসন, প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও ঝুঁকি ভাতা উন্নয়নে কাজ করছে। সবশেষে তিনি বলেন, অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও জাতীয় ঐক্যই দেশের প্রধান শক্তি।
আপনার মতামত লিখুন :