রাজধানীর বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে ডিমের দাম। এক সপ্তাহ আগেও খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিম সর্বোচ্চ ১১ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকায়। একই সঙ্গে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। ফলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একটি ডিমের দাম বেড়েছে ২ টাকা এবং হালিতে বেড়েছে ৬ টাকা।
শুক্রবার (৯ মে) রাজধানীর শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, কাপ্তান বাজার ও সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বর্তমানে এক ডজন ডিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১৪০ টাকা।
শনির আখড়া বাজারের ডিম বিক্রেতা মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, “পাইকারি বাজারেই এক ডজন ডিমের দাম ১০ টাকা বেড়েছে। গত শুক্রবারও ১৩০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন বিক্রি করছি ১৪০ টাকায়।”
যাত্রাবাড়ী বাজারের দোকানি আশরাফুল ইসলাম জানান, মাত্র ২০ দিন আগেও তিনি প্রতি ডজন ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এখন সেই একই ডজন বিক্রি করতে হচ্ছে ১৪০ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গরমের সময় সাধারণত ডিম ও মুরগির দাম কম থাকে। এ সময় খামারিরা বড় মুরগি দ্রুত বিক্রি করে দেন এবং নতুন মুরগি তোলার প্রস্তুতি নেন। তীব্র গরমে মুরগির মৃত্যুহারও বেড়ে যায়। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ডিমের দাম বাড়ছে।
এর আগে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের শেষ দিকে ডিমের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল। তখন সরকার আমদানির অনুমতি দিলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে বাজার। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রতি হালি ডিমের দাম ৫২ টাকায় পৌঁছেছিল। পরে আমদানি বাড়ানো হলে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তা কমে ৪০ টাকায় নেমে আসে।
চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতেও রাজধানীতে প্রতি হালি ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে মাসের শেষ দিকে তা বেড়ে ৪৫ টাকায় ওঠে। বর্তমানে সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। অন্যদিকে বাজারে সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে পেঁপের দাম। তবে কিছুটা কমেছে বেগুন, কক মুরগি ও গরুর মাংসের দাম। একই সঙ্গে মাছের বাজারেও দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
আপনার মতামত লিখুন :