
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বড়চওনা এলাকায় অবস্থিত বড়চওনা ফুলকুঁড়ি বিদ্যানিকেতন–এ দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে বিদ্যালয়ের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষে চুরি চালায়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার নিয়মিত কার্যক্রম শেষে শিক্ষকরা স্কুল বন্ধ করে চলে যান। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা পাঁচটি সিলিং ফ্যান, স্কুলের ঘণ্টা, অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতনের আনুমানিক সাত থেকে আট হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালক এম এ মোতালেব হোসেন জানান, শনিবার সকালে এক সহকারী শিক্ষিকা স্কুল খুলতে এসে চুরির বিষয়টি দেখতে পান। পরে তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের বাসিন্দা, শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান মিজান বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে মাদকসেবীরা জড়িত থাকতে পারে। একই সঙ্গে মাদক দমনে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং কোনো ধরনের তদবির না করার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আমানউল্লাহ বলেন, বাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বাজারে পাহারাদার বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার ইঞ্জিনিয়ার শাহজালাল চৌধুরী বেলাল মুঠোফোনে জানান, যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ মাদক। তিনি বলেন, এলাকার শিক্ষার্থী ও তরুণদের সঠিক পথে রাখতে অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সচেতন মানুষদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি সখীপুর উপজেলা প্রশাসনের প্রতি মাদক দমন, চুরি প্রতিরোধ এবং কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :