শুধু জিপিএ-৫ নয়, নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী 


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৯, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
শুধু জিপিএ-৫ নয়, নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী 

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শুধু জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করাই এখন সময়ের দাবি, যাতে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সফলভাবে টিকে থাকতে পারে।

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন সহযোগিতা ফোরাম-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের উদ্যোগে এবং চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সমিতির ব্যবস্থাপনায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এই শূন্যতা দূর করা জরুরি। দেশের বিশাল জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে, যারা সরাসরি কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন, গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ বর্তমান সরকার গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধুমাত্র বার্ষিক পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান ও মূল্যায়ন কার্যকর করতে হবে।

চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী জানান, চীনের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত এবং তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল নয়। বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সেখানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে চীনা ভাষা শেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ পেতে পারে।

ড. মিলন আরও জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার পাঠ্যক্রম ও একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনছে। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে যৌথ শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান, বুয়েট উপাচার্য এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।