
বাগেরহাটের রামপালে মৎস্য ঘেরকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও পাল্টা বক্তব্য দিচ্ছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে রামপাল উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ সময় তারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
যুবদল নেতা শেখ তারেক এনাম অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে তাদের দুই কর্মীকে ঘের থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
রামপাল উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল কবির বাদশা অভিযোগ করেন, আকবর হোসেন আকো ও জাহিদের নেতৃত্বে কিছু ব্যক্তি এলাকায় দখল, হয়রানি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তিনি এসব ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং নিজ দলের ভেতরের বিভ্রান্তি নিরসনের চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম শেখ দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিকভাবে ফায়দা নিতে তুহিনকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অপরদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত যে কেউ হোক, তাদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘেরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে প্রথমে রাজু শেখসহ দুইজনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের উদ্ধার করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলমান রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :