বন্দরগুলোর উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৯, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
বন্দরগুলোর উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

বন্দর ও লজিস্টিকস খাতের কার্যকারিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির জন্য সরকারি-বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারা। তারা বলেন, একটি দক্ষ ও আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থা ছাড়া দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব নয়।

শনিবার (৯ মে) রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাণিজ্য নির্ভর বাংলাদেশের জন্য সমন্বিত বন্দর এবং লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ মত দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই-এর সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, লজিস্টিক খাতের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাব দেশের রপ্তানি সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি বন্দর ব্যবস্থায় পেপারলেস অটোমেশন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) ভিত্তিক উন্নয়ন এবং আধুনিক কোল্ড চেইন লজিস্টিকস সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইএম)-এর মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ বলেন, দক্ষ ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে লজিস্টিক খাতে ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে, যা ব্যবসা পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ–এর প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীমাবদ্ধতার কারণে রেলপথই এখন প্রধান ভরসা হওয়া উচিত। তিনি বন্দরের সঙ্গে রেল সংযোগ জোরদারের পাশাপাশি একটি সমুদ্রবন্দর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার প্রস্তাব দেন।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক বলেন, পরিকল্পনায় বাস্তবতার ঘাটতির কারণে অবকাঠামো উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি সরকারি সংস্থাগুলোর কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেন। বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট নুসরাত নাহিদ বাবী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে জাতীয় লজিস্টিক পলিসি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। একইসঙ্গে এডিবির কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ডিজিটাল লজিস্টিক ব্যবস্থার পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম. মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়লেও তা এখনো সীমিত কিছু পণ্য ও বাজারের ওপর নির্ভরশীল। তাই বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নীতিগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি। বক্তারা একমত হন যে, সমন্বিত পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশের লজিস্টিক ও বন্দর খাত কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে না।