
পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি এই বাহিনীকে আরও মানবিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (৯ মে) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে আত্মোৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানুষের জানমালের সুরক্ষা এবং অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অনেকাংশে পুলিশ বাহিনীর সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর নির্ভরশীল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের দক্ষতা ও সততার জন্য বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরন ক্রমেই জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। সাইবার স্পেস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিপফেক প্রযুক্তির মতো আধুনিক মাধ্যম এখন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার, মানবাধিকার রক্ষা এবং সেবামুখী মনোভাব গড়ে তোলার মাধ্যমে পুলিশ-জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে হবে। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ পুলিশ মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে এবং আইনের শাসন সুসংহত করতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সবশেষে তিনি ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা ও বাহিনীর ধারাবাহিক অগ্রগতি কামনা করেন।
আপনার মতামত লিখুন :