দেশেই তৈরি হবে ডেঙ্গু ও হামের টিকা, কমবে অ্যান্টিভেনম সংকট


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৯, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
দেশেই তৈরি হবে ডেঙ্গু ও হামের টিকা, কমবে অ্যান্টিভেনম সংকট

দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক (র‍্যাবিস), হামের টিকা এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ চারটি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এ সামাদ মৃধা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে এসব টিকা ও অ্যান্টিভেনম সরকারের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ভায়াল টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে। বর্তমানে দেশে এসব টিকার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত টিকা রপ্তানির সুযোগও তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে এসব টিকা বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে আমদানিকৃত মূল্যের প্রায় অর্ধেক দামে টিকা সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতে সরকারের ব্যয় কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য টিকার সহজলভ্যতাও বাড়বে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ডেঙ্গু, হামের প্রকোপ এবং সাপের কামড়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছর হামের প্রাদুর্ভাবে ৩২০ জনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৪০ হাজার শিশু আক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে ৪১৩ জনের মৃত্যু এবং ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা অনুসারে ইডিসিএল ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘কিউডেঙ্গা’ টিকা উৎপাদনের পরিকল্পনাও নিয়েছে। এছাড়া দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। অথচ দেশে এখন পর্যন্ত কার্যকর অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। একইভাবে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকারও চাহিদা ও সংকট দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।

ইডিসিএল আরও জানিয়েছে, এই প্রকল্পের পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১০ একর জমিতে একটি আধুনিক গবেষণা ও উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০৩২ সালের মধ্যে সেখানে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের ওষুধ ও টিকা উৎপাদন খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি ঘটবে এবং বাংলাদেশ নতুন একটি সক্ষমতার স্তরে পৌঁছাবে।