ইসরায়েলে প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিরল এই সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তি কয়েক মাস আগে পূর্ব ইউরোপ ভ্রমণ করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই তিনি এই ভাইরাসে সংক্রমিত হন।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোগীর শরীরে প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত পরীক্ষা শুরু করা হয়। পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে হান্টাভাইরাসের জিনগত উপাদান পাওয়া গেলে সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দেশটিতে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল হলেও এটিই প্রথম ঘটনা নয় বলে উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এর আগে কিছু নাগরিক দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণের পর আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ ছিল। তবে নতুন শনাক্ত রোগী ইউরোপীয় ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যা দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ ধরনের তুলনায় ভিন্ন প্রকৃতির। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা গভীর গবেষণা চালাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে আন্দিজ ধরনের হান্টাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এমভি হন্ডিয়াস নামের একটি প্রমোদতরীতে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অন্তত তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয়। ওই জাহাজে প্রায় ১৪৭ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে অনেকেই শ্বাসকষ্টসহ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জাহাজটি কেপ ভার্দের উপকূলে নোঙর করে আক্রান্তদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। তাদের মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে থাকা ধূলিকণার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে এটি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
এ রোগে শ্বাসকষ্ট, কিডনির জটিলতা এবং অঙ্গ বিকল হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এখনো এর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। তাই প্রতিরোধ ও দ্রুত শনাক্তকরণই প্রধান প্রতিরক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ এই ভাইরাস ভ্রমণের মাধ্যমেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :