বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৮, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন

বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বর্তমানে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের পাশে থেকে চীন সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর এবং দুই দেশের প্রথম যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন সবসময় দৃঢ় সমর্থন দিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি ‘এক চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যার ফলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও অবকাঠামো প্রকল্পে চীন কাজ করছে।

এছাড়া সবুজ জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহের কথাও জানান তিনি। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত।

জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২ হাজার বাংলাদেশিকে চীনের ভিসা দেওয়া হয়েছে এবং বছর শেষে এই সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ৪৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।

শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দুটি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের এই সময়ে চীন বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থাকতে চায় এবং কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও সুশাসনে অভিজ্ঞতা বিনিময় অব্যাহত রাখবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ আরও শক্তিশালী হবে।