সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের বড় লক্ষ্য নির্ধারণ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৭, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের বড় লক্ষ্য নির্ধারণ

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৮০৯ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে মোট ১ হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ সক্ষমতার প্রায় ৫.০১ শতাংশ।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, ২০২৮ সালের মধ্যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ১৩টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৫৭২ দশমিক ৬ মেগাওয়াট উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে দেশে ১ হাজার ১৭৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৬টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি সরকারি এবং ২০টি বেসরকারি খাতে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার সম্মিলিত সক্ষমতা ১ হাজার ৬২ মেগাওয়াট।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে বর্তমানে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। অফ-গ্রিড ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎসহ মোট সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াটে। তবে প্রকৃত উৎপাদন এই সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম, যা গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা মেটাতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও সৌর পার্ক সম্প্রসারণ হলে আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের ব্যয়ও কমে আসবে। তাদের মতে, অব্যবহৃত জমিতে সৌর প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে বিদ্যুতের ইউনিট খরচ ২৩ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। জ্বালানি উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতিগত ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো দেশগুলো সৌরবিদ্যুতে এগিয়ে থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও দ্রুত অগ্রগতি করছে। বাংলাদেশও এই ধারায় এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।