সড়ক অবরোধ ও কোচিং সেন্টার ঘেরাও

সাতক্ষীরায় শিক্ষকের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে বিক্ষোভ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৭, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শিক্ষকের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে বিক্ষোভ

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের এক শিক্ষকের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কলেজ এলাকা। অভিযুক্ত কোচিং সেন্টার পরিচালক ডা. সজিবের গ্রেপ্তার এবং তার পরিচালিত কোচিং সেন্টার বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শহীদ রিমু সড়কে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘সজিব বায়োলজি একাডেমি’ নামে একটি কোচিং সেন্টার ঘেরাও করেন। এসময় সেন্টারের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং সাইনবোর্ড খুলে ফেলার ঘটনাও ঘটে।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজ চলাকালে সরকারি কলেজের সামনেই কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছিলেন ডা. সজিব। বিষয়টি নিয়ে কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. শহীদুল ইসলাম আপত্তি জানালে, ডা. সজিব তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি ও অশালীন ভাষায় কথা বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কোচিং সেন্টার থেকে একটি হার্ডডিস্ক ও একটি কম্পিউটার জব্দ করে। পাশাপাশি সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাশিয়া আক্তার বলেন, “একজন শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।” আরেক শিক্ষার্থী মাসুদ হোসেন বলেন, “কোচিং সেন্টারটি স্থায়ীভাবে বন্ধ না করা হলে রোববার আবারও আন্দোলনে নামবেন শিক্ষার্থীরা।”

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল হাসেম বলেন, শিক্ষকের সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সুশান্ত ঘোষ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে কোচিং সেন্টার থেকে আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত ডা. সজিব বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ডা. সজিবের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।