রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণের বিশ্বাস: প্রধানমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৭, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণের বিশ্বাস: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের উদ্দেশে বলেছেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। তাই দেশ ও জনগণের কল্যাণে নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমেই জনমনে ধীরে ধীরে আস্থা তৈরি হয়।

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়, এটি মানুষের সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের আশ্বস্ত করে বলেন, যেকোনো আইনগত ও মানবিক উদ্যোগে সরকার তাদের পাশে থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বড় শক্তি হলো তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। এ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা গেলে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মানুষের কল্যাণে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, একটি রাষ্ট্রের ক্ষুদ্রতম ইউনিট হলো পরিবার। পরিবারগুলো যদি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত থাকে, তবে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধও শক্তিশালী হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের মাঠপর্যায়ে সরকারের “প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর” হিসেবে অভিহিত করেন।

সরকারপ্রধান বলেন, জনগণ যেন সরকারি দপ্তরে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন এবং সম্মানের সঙ্গে দ্রুত সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। একজন বৃদ্ধ বা অসুস্থ মানুষ সেবা নিতে এলে তার প্রতি মানবিক আচরণ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিক ব্যবহার সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ায়। বিপরীতে হয়রানি জনগণের মনে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে। তাই প্রশাসনকে অবশ্যই জনমুখী হতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চার দিনের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে কর্মকর্তারা সরকারের লক্ষ্য, কর্মসূচি ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কে হালনাগাদ ধারণা পেয়েছেন। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পালা।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই গাড়ি চালিয়ে সচিবালয় থেকে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।