যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকদের জন্য সুখবর


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৭, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকদের জন্য সুখবর

মার্কিন শুল্ক যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্য যুক্তরাজ্যেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে তৃতীয় বৃহত্তম বাজার জার্মানিতে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা ও বাণিজ্য নীতির পরিবর্তনের কারণে সামগ্রিকভাবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশের প্রধান দুই বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৭৩৬ কোটি ১৯ লাখ ডলারের পণ্য। একই সময়ে আগের অর্থবছরে এই অঙ্ক ছিল ৭১৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় প্রায় আড়াই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৫১ লাখ ডলারের পণ্য, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ২৩ শতাংশ বেশি। ফলে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের জন্য আরও শক্তিশালী রপ্তানি বাজার হিসেবে অবস্থান করছে।

তবে চিত্র ভিন্ন জার্মানির ক্ষেত্রে। ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারে রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে জার্মানিতে রপ্তানি হয়েছে ৩৮৬ কোটি ১৮ লাখ ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৪৩৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। এতে এক বছরে রপ্তানি আয় কমেছে সাড়ে ১১ শতাংশের বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক শুল্ক উত্তেজনা, মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের প্রবণতা বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেললেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি পণ্যের চাহিদা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় বাজার জার্মানিতে চাহিদা কমে যাওয়ায় সামগ্রিক রপ্তানি ভারসাম্যে চাপ তৈরি হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বাজার বহুমুখীকরণ এবং নতুন গন্তব্যে রপ্তানি সম্প্রসারণই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।