
ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর ঘিরে এবার দৌড়ে এসেছে নতুন মোড়। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল শেষে পারফরম্যান্স, বড় ম্যাচে প্রভাব এবং মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিকতা—সব মিলিয়ে সম্ভাব্য শীর্ষ পাঁচ দাবিদারের তালিকা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন উসমান দেম্বেলে। পিএসজির এই ফরাসি ফরোয়ার্ড টানা দ্বিতীয়বার ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে আছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও মৌসুমজুড়ে গোল ও অ্যাসিস্ট আগের চেয়ে কিছুটা কম, তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। শেষ তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করে তিনি পিএসজিকে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছেন।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে শিরোপা না পেলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে দুর্দান্ত ছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ৬১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে এখনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রেখেছে।
তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন ডেকলান রাইস। আর্সেনালকে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে পৌঁছাতে মিডফিল্ডে তার নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। একজন মিডফিল্ডার হিসেবে ব্যালন ডি’অর দৌড়ে থাকা তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপেও ভালো করলে তার অবস্থান আরও শক্ত হতে পারে।
চতুর্থ স্থানে আছেন তরুণ স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার হয়ে ইনজুরির আগে ৪২টি গোল অবদানে সরাসরি ভূমিকা রাখেন তিনি। গতি, ড্রিবলিং ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতায় ইতোমধ্যেই তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
পঞ্চম স্থানে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ক্লাব পর্যায়ে বড় কোনো ট্রফি না পেলেও ব্যক্তিগতভাবে ৪৭টি গোল অবদান রেখেছেন ফরাসি এই তারকা। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অধিনায়ক হিসেবে তার পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের বছর যেহেতু বিশ্বকাপের বছর, তাই ক্লাব পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে বড় টুর্নামেন্টে সাফল্যই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে ব্যালন ডি’অর।
আপনার মতামত লিখুন :