পে স্কেল: প্রথম ধাপে সুখবর পাচ্ছেন যারা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৭, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
পে স্কেল: প্রথম ধাপে সুখবর পাচ্ছেন যারা

দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রাথমিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে চলছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বেতন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, প্রথম ধাপে মূলত নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারী, স্বল্প পেনশনভোগী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের অভিভাবকদের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে বিপুল আর্থিক ব্যয়ের কারণে শুরুতেই সবার জন্য পূর্ণাঙ্গ সুবিধা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

জানা গেছে, নতুন বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ অর্থ দিয়ে প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতনের প্রায় অর্ধেক বাস্তবায়ন করা হতে পারে। বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এনে প্রথম ধাপের বড় অংশ ব্যয় করা হবে।

জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। এর একটি বড় অংশ প্রথম ধাপেই কার্যকর করার চিন্তা রয়েছে, যাতে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা তাৎক্ষণিক স্বস্তি পান।

নতুন কাঠামোয় পেনশনভোগীদের জন্যও বড় ধরনের সুবিধার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে যারা মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের জন্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৫৫ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বরাদ্দের ভারসাম্য বজায় থাকে।

এছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা বর্তমান ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার বিষয়টিও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সরকারি কর্মচারীদের প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তাদের জন্য মাসিক দুই হাজার টাকা ভাতা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। অর্থ বিভাগ এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেসব সুবিধা পরবর্তী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে।