রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বাসাবাড়িতে গোপনে মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন করে বিভিন্ন ধরনের মাদক উৎপাদনের উদ্বেগজনক তথ্য পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এসব মাদক অনলাইনে অর্ডার নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের পাশাপাশি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিদেশেও পাঠানো হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ডিএনসির সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে ইয়াবা, কুশ (উন্নত জাতের গাঁজা), কেটামিন ও ভেজাল মদ তৈরির একাধিক কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রম পরিচালনায় জড়িত অন্তত তিনটি সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় দেশি-বিদেশি কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি বাসা থেকে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পায় ডিএনসি। এ ঘটনায় তোহিদুজ্জামান ওরফে শিমুল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আগে একটি আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিতে কেমিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। পরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজেই ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে ৭ জানুয়ারি রাজধানীর ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গাঁজার খামারের সন্ধান পাওয়া যায়। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, তৌসিফ হাসান নামে এক ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘কুশ’ চাষের কৌশল শিখে দেশে এসে নিজের বাসাতেই খামার গড়ে তোলেন। অভিযানের সময় তার বান্ধবীকে গ্রেপ্তার করা হলেও তৌসিফ তখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। একই দিনে রাজধানীর জোয়ারসাহারা এলাকায় আরেকটি অভিযানে ভেজাল মদ তৈরির কারখানা শনাক্ত করে ডিএনসি। সেখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলে ভেজাল মদ ভরে বাজারজাত করা হতো বলে জানিয়েছে কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ মদ ও মদ তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়।
ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, এসব চক্র ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে অর্ডার গ্রহণ করত এবং লেনদেন করত ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে। পরে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে মালয়েশিয়া, দুবাই ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে মাদক পাঠানো হতো। ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, গত চার মাসে ঢাকায় একাধিক ভয়ংকর অপ্রচলিত মাদকের ল্যাব শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কুশ, কেটামিন, ইয়াবা ও ভেজাল মদ তৈরির কারখানাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব চক্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি মাদক ল্যাবের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং একটি বিদেশি চক্রকেও শনাক্ত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :