
২০২৫ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলাকালেই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী বিধিমালা (এন্টি-করাপশন কোড) লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, অভিযুক্ত পাঁচজনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ (Provisionally Suspended) করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের জবাব দিতে ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন— মো. লুবলুর রহমান (টিম ম্যানেজার), মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ (ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক), রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার), সামিনুর রহমান এবং ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার।
বিসিবির তদন্ত অনুযায়ী, মো. লুবলুর রহমান ও তৌহিদুল হক তৌহিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা না করা, তথ্য গোপন ও প্রমাণ নষ্ট করার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। আইসিসির এন্টি-করাপশন কোডের নির্দিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অন্যদিকে অমিত মজুমদারের বিরুদ্ধে সরাসরি ম্যাচের ফলাফল বা অগ্রগতির ওপর জুয়া খেলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়। একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীর বিরুদ্ধেও।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়েছেন সামিনুর রহমান, যিনি বিপিএলের ৯ম, ১০ম ও ১১তম আসর পর্যন্ত ফিক্সিং চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, আন্তর্জাতিক জুয়াড়ি চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ে সহায়তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে তিনি অভিযোগ স্বীকার করে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করেন। এর ফলে তাকে বিসিবির সব ধরনের কার্যক্রম থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিসিবি জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে তদন্ত ও শাস্তি প্রক্রিয়া নিয়ে তারা আর কোনো মন্তব্য করবে না। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া জবাব পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :