প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে ১৯২ আরবান হেলথকেয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৬, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে ১৯২ আরবান হেলথকেয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন নগরে নির্মিত ১৯২টি আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ার সেন্টার স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনে হস্তান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত বা আংশিক ব্যবহৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে পুনরায় কার্যকরভাবে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করা সম্ভব হবে।

বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান। তিনি বলেন, একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ২৩টি পৌরসভায় এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রকল্প চলাকালে নগরবাসী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেলেও মেয়াদ শেষে অনেক কেন্দ্র অচল হয়ে পড়ে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জনবল সংকট, ব্যবস্থাপনার ঘাটতি ও তদারকির অভাবে কেন্দ্রগুলো প্রত্যাশিতভাবে পরিচালিত হচ্ছিল না। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে এবং জনগণও কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই কেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি জারি করা হয়েছে এবং জটিলতা এড়াতে প্রক্রিয়াটি সহজ রাখা হয়েছে।

হস্তান্তর প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলো সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে তা হস্তান্তর করবে। এরপর এসব কেন্দ্রের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং জনবল নিয়োগের দায়িত্ব নেবে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক সভায় এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যেই হস্তান্তর সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৪১টি, ঢাকা দক্ষিণে ৩০টি, ঢাকা উত্তরে ১৫টি, খুলনায় ২৮টি এবং রাজশাহীতে ১৭টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগর এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ সহজেই নিকটবর্তী কেন্দ্রে চিকিৎসা পাবে এবং বড় হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করলে খুব দ্রুত এই উদ্যোগের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে।