সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর বিকল্প নয়, প্রতিযোগিতার পূর্বশর্ত: বাণিজ্যমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৬, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর বিকল্প নয়, প্রতিযোগিতার পূর্বশর্ত: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর এখন আর কেবল পরিবেশগত আলোচনার বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশে SWITCH2CE পাইলট উদ্যোগের মাধ্যমে সার্কুলার অর্থনীতির রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং টেকসই উৎপাদন এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা এখন এমন উৎপাদন ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, যা দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার প্রতিফলন ঘটায়।

তিনি আরও জানান, ‘SWITCH to Circular Economy’ কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে সার্কুলার অর্থনীতি কোনো ধারণাগত বিষয় নয়, বরং এটি বাস্তবায়নযোগ্য একটি কার্যকর মডেল। এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপ ও বেস্টসেলারের সহযোগিতায় পরিচালিত এসব উদ্যোগ টেক্সটাইল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার ও ভ্যালু চেইন উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সার্কুলার অর্থনীতির মাধ্যমে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, বর্জ্য হ্রাস, উদ্ভাবন বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে পুনর্ব্যবহারভিত্তিক উৎপাদন পরিবেশগত চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি এলডিসি উত্তরণের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই সময়ের পর বাংলাদেশকে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে, তাই এখন থেকেই অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব করা জরুরি। একই সঙ্গে লজিস্টিক ব্যয় কমানো, বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সেমিনারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। বক্তারা বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে সার্কুলার অর্থনীতির প্রসার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।