
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডল।
বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার জামিন আবেদনের শুনানিকালে এ তথ্য জানান তার আইনজীবী মোহাম্মদ আলী হায়দার। তিনি আদালতে বলেন, আবদুল জলিল মণ্ডল মামলায় রাজসাক্ষী হতে চান।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে শাপলা চত্বর ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে চলতি বছরের ৩০ মার্চ রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে আবদুল জলিল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ মে আবদুল জলিল মণ্ডলসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরের ঘটনায় মামলা হয়। তিনি ওই মামলার দ্বিতীয় নম্বর আসামি।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত চার জেলায় মোট ৫৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, কবর শনাক্তকরণ এবং পরিবারের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনের ঘটনায় ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জন নিহত হন।
অন্যদিকে, আবদুল জলিল মণ্ডল দীর্ঘ কর্মজীবনে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একসময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ছিলেন। শাপলা চত্বর ঘটনার সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) পদেও দায়িত্ব পালন করেন।
আপনার মতামত লিখুন :