ভিক্ষাবৃত্তি করাতে শিশুর গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন, এরপর যা ঘটল


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৬, ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
ভিক্ষাবৃত্তি করাতে শিশুর গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন, এরপর যা ঘটল

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে এক শিশুর গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন করার মর্মান্তিক ঘটনার ১৬ বছর পর অবশেষে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে র‌্যাব-১ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভুক্তভোগীকে তার বাবা উমেদ আলীর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এলিনা খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাব-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপস অ্যান্ড মিডিয়া) শাহ আলম জানান, ২০১০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ওই শিশুর বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। সে সময় শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান আলীসহ পাঁচজন তাকে অপহরণ করে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে নির্মম নির্যাতন চালায়। ব্লেড দিয়ে তার গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং গলা, পেট ও মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে মূল আসামিসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

হাইকোর্টের নির্দেশে ভুক্তভোগীকে র‌্যাবের জিম্মায় চিকিৎসার জন্য রাখা হয় এবং পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে দুই মাস চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ২০১১ সালের ১৫ মে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২ এপ্রিল ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

পরবর্তীতে ৯ এপ্রিল আদালত ভুক্তভোগীকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই দীর্ঘ ১৬ বছর পর তিনি পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। এই দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা, আইনি লড়াই এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে পরিবারের সান্নিধ্যে ফিরতে পারায় স্বস্তি প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।