নেত্রকোনার কলমাকান্দায় নিখোঁজের দুই দিন পর পাঁচ বছরের এক শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের হুগলি গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুর নাম জান্নাত আক্তার (৫)। সে হুগলি গ্রামের আসাদ মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৪ মে) বিকেলে জান্নাত আক্তার বাড়ির উঠানে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ হয়। পরে তার পরনে লাল রঙের জামা এবং গলায় গামছা ছিল বলে জানা গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিং, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি।
বুধবার সকালে স্থানীয় এক ব্যক্তি আসাদ মিয়ার বাড়ির পেছনে প্রায় ৩০০ গজ দূরে ধানখেতের আলের পাশে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি জান্নাতের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের বিচ্ছিন্ন অংশ ও একটি পা উদ্ধার করে। পরে সকাল ১০টার দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত শিশুর আত্মীয় ও স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, “এটা কীভাবে হলো কিছুই বুঝতে পারছি না। শিশুটির শরীরের বেশিরভাগ অংশই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আমাদের জানা মতে পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বন্যপ্রাণী বা শিয়াল-কুকুরের আক্রমণে মরদেহটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :