
অনিয়ম ও আর্থিক সংকটে থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত “সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি”র প্রশাসকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বুধবার (৬ মে) দুপুর ২টায় বাংলাদেশ ব্যাংকে এ বৈঠক শুরু হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, একীভূত ব্যাংকগুলোর বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি, কার্যক্রম পরিচালনায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।
এই একীভূত কাঠামোর আওতায় রয়েছে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এসব ব্যাংক একীভূত করে গত ২১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে “সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি” গঠন করা হয়। এর আগে গত নভেম্বর মাসে পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার শূন্য ঘোষণা করে একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে একীভূত ঘোষণা করা হলেও এখনো ব্যাংকগুলো পৃথকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার একীভূত না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থাই চালু রাখার নির্দেশনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। আজকের সভাও সেই ধারাবাহিক রুটিন আলোচনার অংশ।
নতুন গঠিত ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ইতোমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে, বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানত বিমা তহবিল থেকে।
এদিকে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন কার্যকর হওয়ার পর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক উদ্যোক্তা পরিচালকরা পুনরায় শেয়ার কেনার আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। নতুন আইনের ১৮(ক) ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে সাবেক শেয়ারধারকদের শেয়ার কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে একীভূত ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আজকের বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :