
পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ঘাটতির কারণে সৃষ্ট লোকসান কমাতে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে বিইআরসির এক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পিডিবির পাঠানো প্রস্তাবটি কারিগরি কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর কমিশন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হলে প্রতি ইউনিটে বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এতে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি খরচে প্রায় ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৪৮ পয়সা পর্যন্ত অতিরিক্ত যোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হয়। তখন খুচরা পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছিল। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ৭ টাকা ০৪ পয়সায় দাঁড়ায়।
নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য আরও বড় অঙ্কে বৃদ্ধি পাবে, যা পরোক্ষভাবে খুচরা বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে পাইকারি ট্যারিফে প্রতি ইউনিটে ৫০ পয়সা বৃদ্ধি পেলে সরকারের ভর্তুকি প্রায় ৫ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা কমে যাবে। একইভাবে ১ টাকা বাড়লে ভর্তুকি কমবে প্রায় ১০ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা এবং ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ালে কমতে পারে প্রায় ১২ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা।
এদিকে গত ৯ এপ্রিল বিদ্যুতের দাম পর্যালোচনার জন্য ছয় সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ ও বিশ্লেষণের ধারাবাহিকতায়ই নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব সামনে এসেছে।
এখন বিইআরসির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে পাইকারি বিদ্যুতের নতুন মূল্য কাঠামো কার্যকর হবে কি না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে জনগণ ও শিল্প খাতে এর প্রভাব বিশদভাবে বিবেচনা করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :