সরকারি দপ্তরে কাগজনির্ভর কার্যক্রম কমিয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে দেশে ই-ফাইলিং ও স্মার্ট অফিস ব্যবস্থাপনার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থার ফলে সরকারি সেবায় সময় ও ব্যয় কমেছে এবং নাগরিক সেবাও আগের তুলনায় অনেক সহজ ও কার্যকর হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ এবং এটুআই কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে ই-নথি বা ই-ফাইলিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর ফলে কর্মকর্তারা অফিসে উপস্থিত না থাকলেও অনলাইনে নথি নিষ্পত্তি, অনুমোদন ও দাপ্তরিক যোগাযোগ সম্পন্ন করতে পারছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ ফাইল ডিজিটালভাবে নিষ্পত্তি হচ্ছে। এতে ফাইল প্রসেসিংয়ের সময় কমে এসেছে এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও দ্রুত হচ্ছে।
একই বিভাগের এক অতিরিক্ত সচিব জানান, আগে যেখানে একটি ফাইল নিষ্পত্তিতে সপ্তাহ লেগে যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাজ শেষ হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি স্বচ্ছতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে নোটশিট পরিবর্তনের সুযোগ কমে যাওয়ায় দুর্নীতির ঝুঁকিও হ্রাস পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১’ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তরগুলোকে ধাপে ধাপে স্মার্ট অফিসে রূপান্তর করা হচ্ছে। এর আওতায় ই-ফাইলিং, অনলাইন মিটিং, ডিজিটাল হাজিরা, অনলাইন ছুটি ব্যবস্থাপনা ও সেবার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ চালু হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন হাজার হাজার ই-নথি নিষ্পত্তি হচ্ছে, ফলে কাগজ, প্রিন্টিং ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আইটি বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-ফাইলিং শুধু প্রশাসনিক আধুনিকায়ন নয়, এটি সেবার সংস্কৃতিতেও বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন নাগরিকরা অনলাইনে আবেদন ও ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সহজেই সেবার অগ্রগতি জানতে পারছেন। ঝালকাঠি-এর জেলা প্রশাসক জানান, ডিজিটাল নথি ব্যবস্থার কারণে জরুরি নির্দেশনা দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প তদারকিও সহজ হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট এবং দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত হলে সরকারি সেবা আরও দ্রুত ও নাগরিকবান্ধব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ই-ফাইলিং ও স্মার্ট অফিস ব্যবস্থা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিক ও গতিশীল করার পাশাপাশি নাগরিক সেবায় নতুন মাত্রা যোগ করছে।
আপনার মতামত লিখুন :