
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বিদায়ী শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির প্রধান ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই পরাজিত হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। শুধু মমতা নন, তৃণমূলের একাধিক মন্ত্রী ও তারকা প্রার্থীর হার এই নির্বাচনে দলটির অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে।
সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম আসনে কঠিন লড়াইয়ের পর প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে লড়াইটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, তবে এমন ফলাফল অনেকের জন্যই অপ্রত্যাশিত ছিল।
তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও মন্ত্রী সুজিত বসু বিধাননগর আসনে বিজেপির শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কাছে ৩৭ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন। একইভাবে, দমদম উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ২৬ হাজারের বেশি ভোটে হেরে যান বিজেপির সৌরভ সিকদারের কাছে।
তারকা প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাহনগরে বিজেপির সজল ঘোষের কাছে প্রায় ১৭ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন। চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তী ব্যারাকপুরে বিজেপির কৌস্তুভ বাগচীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারেন। এছাড়া রাসবিহারী আসনে দেবাশিস কুমার প্রায় ২১ হাজার ভোটে হেরে যান স্বপন দাশগুপ্তের কাছে। তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ নেতা অরূপ বিশ্বাস টালিগঞ্জে এবং মন্ত্রী শশী পাঁজা শ্যামপুকুরে যথাক্রমে ৬ হাজার ও ১৪ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন। বেহালা পশ্চিমে রত্না চট্টোপাধ্যায়, কাশীপুর-বেলগাছিয়ায় অতীন ঘোষ এবং মানিকতলায় শ্রেয়া পাণ্ডেও পরাজয়ের মুখ দেখেন।
এদিকে দমদমে ব্রাত্য বসু, মেখলিগঞ্জে পরেশচন্দ্র অধিকারী, দিনহাটায় উদয়ন গুহ, রাজগঞ্জে স্বপ্না বর্মণ, শিলিগুড়িতে গৌতম দেব এবং বালুরঘাটে অর্পিতা ঘোষ—সবাই বিজেপি প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন। দুই দফায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৩টির ফলাফলে দেখা গেছে, বিজেপি ২০০টির বেশি আসনে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের আসনসংখ্যা ৮০-এর আশপাশে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এবারের নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়ে ক্ষমতা হারাতে যাচ্ছে দলটি।
আপনার মতামত লিখুন :