খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে ‘হামলাকারী’ যুবদলে, কেন্দ্রের কঠোর অ্যাকশন


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৫, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে ‘হামলাকারী’ যুবদলে, কেন্দ্রের কঠোর অ্যাকশন

ফেনীর মহিপালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার এক আসামিকে দলীয় পদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফেনী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। একই ঘটনায় পৌর যুবদলের সভাপতি এ কে এম জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সংগঠনের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্তে এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিতে ২০১৭ সালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এ ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করায় পৌর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ফেনী পৌর যুবদলের বিদ্যমান কমিটি স্থগিত করা হয়েছে এবং ঘোষিত ১২টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব কমিটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তথ্য গোপন করে দলের পদ গ্রহণের অভিযোগে গাজী এনামুল হক সুজনকেও প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাকে সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার জেরে এর আগে কমিটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ঘোষিত কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ৬ জন পদত্যাগও করেন। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে আসার পরই এসব সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ২৮ জন আসামির তালিকায় গাজী এনামুল হক সুজনের নাম রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলাটি দায়ের করা হয় এবং আদালত পিবিআইকে ৪৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রতিবেদন এখনো জমা হয়নি বলে বাদীপক্ষ অভিযোগ করেছে।

অভিযুক্ত সুজন দাবি করেছেন, ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের জেরে করা মিথ্যা মামলা। অন্যদিকে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।