বন্ধ শিল্পকারখানা চালু ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: বাণিজ্যমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৪, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
বন্ধ শিল্পকারখানা চালু ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, দেশের শিল্পখাত পুনরুজ্জীবিত করা, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং জরুরি পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ন মিলকে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, বন্ধ চিনিকল চালু এবং ডিস্টিলারি স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ এসেছে, যা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

বাজার ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী জানান, উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান কমাতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর (এআইভিত্তিক) সাপ্লাই চেইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানি, মজুদ, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের তথ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশে পণ্যের ঘাটতি না তৈরি হয়।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-এর কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কথাও জানান মন্ত্রী। এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞরা যুক্ত থাকবেন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ-মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ, লবণ সরবরাহ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার একযোগে কাজ করে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করবে। ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।