এগিয়ে বিজেপি, পাল্টে যেতে পারে বাংলার সমীকরণ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৪, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
এগিয়ে বিজেপি, পাল্টে যেতে পারে বাংলার সমীকরণ

পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া গণনায় দুপুর ৩টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ১৯১টি আসনে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ৯৭টি আসনে। এছাড়া বামফ্রন্টইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস একটি করে আসনে এগিয়ে রয়েছে এবং অন্যান্যরা তিনটি আসনে।

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস এবার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় বিজেপির অগ্রগতি ভোটারদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র পানিহাটি, মানিকতলা ও বরাহনগরে বিজেপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। মানিকতলায় তাপস রায় এবং বরাহনগরে সজল ঘোষ তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে পিছনে ফেলেছেন। পানিহাটিতেও বিজেপির প্রার্থী এগিয়ে থাকায় ইস্যুভিত্তিক ভোটের প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও কিছু আসনে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। বালিগঞ্জে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। পাশাপাশি বেলেঘাটা, উলুবেড়িয়া পূর্ব, হিঙ্গলগঞ্জ ও করিমপুরে দলটির প্রার্থীরা লড়াইয়ে টিকে আছেন।

তবে তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা এসেছে মন্ত্রীদের ফলাফলে। অন্তত ২৩ জন মন্ত্রী নিজ নিজ কেন্দ্রে পিছিয়ে রয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছেন শশী পাঁজা, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু এবং মানস ভুঁইয়া

জেলাস্তরেও বিজেপির অগ্রগতি স্পষ্ট। কোচবিহারের সব আসনে তারা এগিয়ে রয়েছে। রানাঘাট উত্তর পশ্চিম, বড়ঞা, উত্তরপাড়া ও খড়গ্রামের মতো কেন্দ্রেও বিজেপির শক্ত অবস্থান দেখা যাচ্ছে। খড়গ্রামে মিতালি মাল জয় পেয়েছেন, আর কান্দিতে গার্গী ঘোষ দাস তৃণমূল প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন।

তবে গণনার মধ্যেই সহিংসতার অভিযোগও উঠেছে। কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের সামনে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। কল্যাণীতেও তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এদিকে ফলতা কেন্দ্রের ভোট বাতিল হওয়ায় সেখানে পুনরায় ভোট গ্রহণ হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব সীমিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে দুপুর পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলের প্রবণতা বলছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের দিকে এগোতে পারে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে এখন ব্যবধান কমিয়ে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ।