হরমুজে ট্রাম্পের ‘নতুন প্রকল্প’ ঘোষণা, সঙ্গে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৪, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
হরমুজে ট্রাম্পের ‘নতুন প্রকল্প’ ঘোষণা, সঙ্গে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের টানা ৩৮ দিনের সংঘাত শেষে বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও মধ্যপ্রাচ্যে চাপা উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক হুমকি-ধমকি ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরানি নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথে আটকে পড়েছে আট শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ। এর বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।

রোববার (৩ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সোমবার (৪ মে) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল থেকে, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত থেকে হরমুজ প্রণালিতে এই প্রকল্প কার্যকর হবে। মার্কিন নৌবাহিনী এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট হরমুজ প্রণালি আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। চলমান উত্তেজনার কারণে প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ট্রাম্প তার পোস্টে দাবি করেন, বহু দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ বর্তমানে আটকা পড়ে আছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুরোধেই যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি এটিকে একটি ‘মানবিক সহায়তা প্রচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই প্রকল্পে কোনো ধরনের বাধা এলে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের এলাকায় ৮৫০টিরও বেশি জাহাজ আটকা পড়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আপাতত মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ দিয়ে সরাসরি এসকর্ট নয়, বরং সমন্বয়ের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য করিডোর সচল রাখতে ১০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনাসদস্য প্রস্তুত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন এই সামরিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।