
মেহেরপুরে চলতি মৌসুমে লিচুর আবাদ ও উৎপাদন বাড়ায় চাষিদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৭১৫ হেক্টর জমিতে ৬ হাজার ১১০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদিত হয়েছিল, যার বাজার মূল্য ছিল ৫০ কোটিরও বেশি। এ বছর আবাদ বেড়ে প্রায় ৮০০ হেক্টরে পৌঁছেছে, যা উৎপাদন আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইতোমধ্যে মেহেরপুরের লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। বাজার দর অনুকূলে থাকলে এবার প্রায় ৫৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রির প্রত্যাশা করছেন চাষিরা। জেলার লিচু দীর্ঘদিন ধরেই স্বাদ ও গুণগত মানের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমাদৃত। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয় এ ফল। রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় মেহেরপুরের লিচুর আলাদা একটি বাজার তৈরি হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় ‘মোজাফফর’ জাতের লিচুর বাগানই বেশি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘বোম্বাই’ জাতের লিচুর চাষ দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের লিচু চাষেও আগ্রহী হচ্ছেন অনেক কৃষক।
সদর উপজেলার লিচু চাষি আব্দুল মালেক জানান, “এবার গাছে গাছে ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর ঠিক থাকলে ভালো লাভের আশা করছি। তবে পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক না থাকলে ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।”
আরেক চাষি রহিম উদ্দিন বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে লিচু চাষে লাভ হওয়ায় অনেকে নতুন করে বাগান করছেন। কিন্তু কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বেড়েছে।” লিচু ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে মেহেরপুরের লিচুর চাহিদা বেশি। মৌসুম শুরু হলে পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে লিচু কিনে নিয়ে যান। সড়ক পরিবহন ও সংরক্ষণ সুবিধা উন্নত হলে ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সনজীব মৃধা বলেন, “এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। আমরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে রোগবালাই কম হয় এবং ফলের গুণগত মান ঠিক থাকে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিচু মেহেরপুরের একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক চাষাবাদ এবং উন্নত বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এই খাত থেকে আরও বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :