সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন-এর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়-এ মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সামাজিক উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশু উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মানবিক সহায়তা খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সুইডেন সরকারের চলমান উন্নয়ন সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকায় ৩৭ হাজার ৮১৪টি এবং বগুড়ায় ৯১১টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পাবে, যা মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে।
শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্রাথমিক স্তরে খাদ্য কর্মসূচি চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। দেশব্যাপী ডে-কেয়ার সেন্টার সম্প্রসারণ, শিশু একাডেমির মাধ্যমে সহশিক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে ভাষা ও কেয়ারগিভিং প্রশিক্ষণ চালু করার বিষয়ও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সুইডেন দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে আগ্রহী। নারী ও শিশু সুরক্ষা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশু পুষ্টি, শিক্ষা এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় সুইডেন সম্ভাব্য সহযোগিতা বাড়াতে চায়।
তিনি আরও জানান, সামাজিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সুইডেন প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে। বৈঠকে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিশু অধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি এবং টেকসই সমাজ গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বৈঠক বাংলাদেশ-সুইডেন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামাজিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে, যা দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :